গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ঘনঘন লোডশেডিং, অস্বাভাবিক ও ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল, মিটার রিডিংয়ে অসঙ্গতি এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিন-রাত মিলিয়ে বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। বিশেষ করে কাশিয়ানী সদর বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের তিন ফ্রিজ ও কয়েকটি লাইট-ফ্যানের স্বাভাবিক মাসিক বিল ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে এলেও মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসের সমন্বিত বিল আসে ৩৮ হাজার ১৪৭ টাকা। অফিসে গিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে উল্টো চাপে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন ওই তরুণ উদ্যোক্তা।
অপরদিকে, উপজেলার হিরণ্যকান্দি গ্রামের শরিফুল ইসলামের মিটারে ব্যবহার অনুযায়ী বিল না করে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস রিডিং ‘শূন্য’ দেখিয়ে প্রতি মাসে ১৪০ ইউনিট করে মনগড়া বিল পাঠানো হয়। পরে তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং যাচাই-বাছাইয়ের পর বিল সমন্বয় করা হয়।
এছাড়া ওড়াকান্দি গ্রামের ইসরাফিল মোল্লার বাড়িতে নিয়মবহির্ভূতভাবে খুঁটি স্থাপন ও সংযোগ দেওয়ার নামে রামদিয়া সাব-জোনাল অফিসের নির্ধারিত ২৮ হাজার ১৪৮ টাকা সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটস্থ করার গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম ফারুক মীর জানান, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। তবে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা না হওয়ার বিষয়ে তার দাবি, ওই গ্রাহক নিয়ম মেনেই সংযোগ পেয়েছেন।

আপনার মতামত দিন