কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকশ একর ফসলি জমিসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন ও বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে অনেক পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
মঙ্গলবার (৮সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের মাঝিপাড়া, ডাক্তারপাড়া, দালালপাড়া ও ভারতপাড়ার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। হোকডাঙ্গা মাঝিপাড়া এলাকার ৭০বছর বয়সী বিধবা জসদা রাণী জানান, তাঁর বসতভিটার অর্ধেক ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বাকি অংশটুকু রক্ষা করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলে অপরিকল্পিতভাবে কাজ করায় তীব্র স্রোতে তা কোনো উপকারে আসছে না।
স্থানীয়রা জানান, থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা এলাকায় এক কিলোমিটার তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় ভাঙন বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর আগে গত বছরও এই এলাকায় ভাঙনের শিকার হয়ে ১৫ থেকে ২০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যের জমিতে ঠাঁই নিয়েছিল। এছাড়া বজরা, গুনাইগাছ ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশও ভাঙনপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, হোকডাঙ্গা মাঝিপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙনের বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে এবং সেখানে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ হোসেন জানিয়েছেন যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে ১০০টি জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত দিন