আসন্ন ২৭ সেপ্টেম্বরের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী লং মার্চের কর্মসূচির ঠিক আগে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের তিন বোনকে আটক করেছে পাঞ্জাব পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইমরানের দুই বোন ডা. উজমা খান ও নুরিন নিয়াজিকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়। এর একদিন আগে রবিবার আটক করা হয় তাদের আরেক বোন আলিমা খানকে।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা পৃথক আদেশে জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় উজমা ও নুরিনকে আটক করা হয়। আদেশে বলা হয়, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমাবেশের মাধ্যমে পিটিআই কর্মীদের সংগঠিত করছিলেন এবং জনশৃঙ্খলার জন্য সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত বিক্ষোভে তাদের কথিত সম্পৃক্ততা, কর্মীদের উসকানি দেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও আনা হয়েছে। পাঞ্জাবের কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের দুজনকে লাহোরের কোট লাখপত কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিন বোনকে আটকের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির পক্ষ থেকে এটিকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়েছে। পিটিআইয়ের তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম অভিযোগ করেন, উজমা ও নুরিনকে তাঁদের সন্তানদেরসহ আটক করা হয়েছিল, যদিও পরে শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সাঁজোয়া গাড়িতে করে তাঁদের তুলে নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে দলটি।
ইমরান খানের ছেলে কাসিম খানও খালারদের আটকের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের কোনো কারণ না দর্শিয়েই গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি ও সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী লং মার্চের ডাক দিয়েছে পিটিআই। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার কোনোভাবেই সড়ক অবরোধ বা জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেবে না।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দী রয়েছেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই নেতার অনাস্থা ভোটে পতনের পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত দিন