আজ টরন্টোতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৪৬তম ‘টেরি ফক্স রান’ বা ‘ম্যারাথন অফ হোপ’। প্রতি বছর লেবার ডে-র পরের রবিবারে টরন্টোর বেশ কয়েকটি ভেন্যুতে এই আয়োজনটি হয়ে থাকে। ক্যানসার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম এক দিনের ফান্ড রাইজার।
ক্যানসার সচেতনতা ও গবেষণার তহবিল গঠনে কিংবদন্তি হয়ে আছেন অ্যাথলেট ও অ্যাক্টিভিস্ট টেরি ফক্স। ১৯৭৭ সালে ক্যানসারের কারণে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। তবে শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এক পা নিয়েই তিনি পুরো কানাডা জুড়েই শুরু করেছিলেন ‘ম্যারাথন অফ হোপ’। ১৯৮০ সালের গ্রীষ্মে একটানা ১৪৩ দিন দৌড়ে ৬টি প্রভিন্স জুড়ে ৫,৩৭৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন তিনি। পরবর্তীতে ক্যানসার মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তাঁকে ম্যারাথন থামাতে হলেও তাঁর এই অসামান্য প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে এক অমর লিজেন্ড তৈরি করে।
টেরির এই আত্মত্যাগের স্মরণে ১৯৮১ সালে ‘টেরি ফক্স ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে শুরু হয় ‘টেরি ফক্স রান’। এখন পর্যন্ত এই ম্যারাথন থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। যার মধ্যে কেবল উইলকেট পার্ক ভেন্যু থেকেই সংগৃহীত হয়েছে ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি। বর্তমানে কানাডার গণ্ডি পেরিয়ে পৃথিবীর প্রায় ৬০টি দেশে এই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বের এই ম্যারাথন অনেকটাই অনানুষ্ঠানিক; যেখানে দূরত্ব অতিক্রম করার চেয়ে প্রতীকী অংশগ্রহণ ও সংহতি প্রকাশের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর এ কারণেই শিশু থেকে বৃদ্ধসহ সব বয়সের এবং শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড মানুষেরাও এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এছাড়া টেরির ইচ্ছানুসারে অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত ম্যারাথনের মতো এই আয়োজনের কোনো করপোরেট স্পন্সর নেই।
অল্প বয়সে কানাডার সর্বোচ্চ সম্মানজনক অ্যাওয়ার্ড ‘অর্ডার অব কানাডা’ অর্জনকারী টেরি ফক্স দেশটির ‘ন্যাশনাল হিরো’ হিসেবে সমাদৃত। কানাডা জুড়ে তাঁর নামে রয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। ক্যানসারের কাছে হার মেনে টেরি ফক্সকে নিজের ‘ম্যারাথন অফ হোপ’ অসমাপ্ত রাখতে হলেও, পৃথিবীব্যাপী অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণে সেই স্বপ্ন আজও সমানভাবে বেঁচে রয়েছে।

আপনার মতামত দিন