জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক পদে তার অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই বিভিন্ন মহলে পদটির দায়িত্ব, পরিধি ও নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এবারের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ১৯০টি সদস্য দেশের গোপন ভোটাভুটিতে ৯৯ ভোট পেয়ে তিনি এ গৌরবময় দায়িত্ব লাভ করেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। বর্তমানে খলিলুর রহমানের অধীন এক্সিকিউটিভ অফিসের আওতায় লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করবেন জাইমা রহমান।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী লিগ্যাল অফিসার মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতির ব্যক্তিগত আইনি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ পরিষদে রেজুলেশন উত্থাপন, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলার ক্ষেত্রে সভাপতির রুলিং প্রদান কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে সংশোধনীর গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে সভাপতিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াই এই কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব। ফিলিস্তিন বা ইউক্রেন সংকটের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে সভাপতির নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং জাতিসংঘ সনদের ধারা ও অতীতের নজির বিশ্লেষণ করে আইনি সুরক্ষাবলয় তৈরি করতেও তিনি সহায়তা করেন।
৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে ২৯টি দেশের ছয়টি ভিন্ন ভাষার মোট ৪০জন কর্মকর্তার একটি দল কাজ করছে। এ তালিকায় জাইমা রহমানসহ মোট ছয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন। অন্য পাঁচজন হলেন কূটনীতিক মো. আব্দুল আলিম এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ ও মো. রফিকুল আলম মোল্লা।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাতিসংঘের নিজস্ব স্থায়ী পেশাদার কর্মীদের পাশাপাশি সভাপতি তার নিজস্ব এখতিয়ার থেকেও লোকবল যুক্ত করতে পারেন। আন্তর্জাতিক আইনে অভিজ্ঞ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের এই পদে নিয়োগের ঐতিহ্য রয়েছে।
সভাপতির কার্যালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে একজন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতিতে এলএলবি এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের 'দি অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল' থেকে বার-অ্যাট-ল সনদ লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টেরও একজন অ্যাডভোকেট। যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ, শ্রম ও স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি প্রো বোনো (বিনামূল্যে) আইনি সহায়তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সুশাসন, জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা তার কাজের অন্যতম ক্ষেত্র।
তার এই অর্জন প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, এই পদে কাজ করার প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা তার রয়েছে। সভাপতির আইনি সহায়তা টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক আইনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এটি তার জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ সুযোগ।
সূত্র: বিবিসি
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন