হোম / আইন-আদালত / আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যা: আদালতে তিন আসাম...
আইন-আদালত

আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যা: আদালতে তিন আসামির স্বীকারোক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
৭৯ বার পঠিত
ফন্ট:
আইফোন হাতানোর লোভ এবং পূর্বপরিকল্পনার জেরে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আইফোন হাতানোর লোভ এবং পূর্বপরিকল্পনার জেরে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে ১৩বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ছবি তোলা ও টিকটক তৈরির সূত্র ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপর দুই কিশোর গত ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

আদালতে দেওয়া তিন আসামির জবানবন্দিতে ঘটনার মূল কার্যকারণ এবং পূর্বপরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

পাঁচ-ছর মাস ধরে পরিচয়ের সুবাদে আসামিদের নজর পড়ে অপ্রতিমের আইফোনটির ওপর। ঘটনার সপ্তাহখানেক আগেই মূলত ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে হত্যার ছক কষা হয়।১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে কৌশলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ থেকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পাহাড়ে পৌঁছানোর পর ফোনটি হাতে নিয়ে ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত তুহিন প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড় মারেন এবং পরে পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন।

আসামিরা জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে যে, আইফোনটি বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের ভূমিকা ও পরবর্তী কর্মকাণ্ডে কিছু ভিন্নতা থাকলেও মূল ঘটনাপ্রবাহে তাদের বয়ানে মিল রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

অল্প বয়সী যুবকদের সঙ্গে এই ধরনের ‘অসম বন্ধুত্ব’ ও মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক অপরাধের এমন নৃশংস পরিণতি সমাজে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এখন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে অপ্রতিমের পরিবার ও এলাকাবাসী।

 

 

 

মাতুভূমি/এসএফ

ড
ডেস্ক রিপোর্ট

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+