সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে লালমনিরহাটের বিভিন্ন পালপাড়া ও কারখানায় এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে। মাটি, খড়, বাঁশ ও কাঠের নিখুঁত কারুকাজে দেবী দুর্গাকে রূপ দিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। কোথাও চলছে কাঠামোর কাজ, আবার কোথাও চলছে রং ও অলংকরণের প্রস্তুতি।
জেলার সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ও কারিগরদের কর্মশালায় ঘুরে দেখা গেছে, নিপুণ হাতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। এখানকার কারিগরদের তৈরি প্রতিমা লালমনিরহাটের গণ্ডি পেরিয়ে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও সে অনুযায়ী প্রতিমার দাম না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে অনেকের। সারাবছর কাজের সুযোগ ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এই শিল্পীরা।
লালমনিরহাট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় মোট ৪৭৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপ রয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকবে। এছাড়া জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদযাপনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

আপনার মতামত দিন