জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুতের অসংগতিপূর্ণ ‘ভূতুড়ে বিল’, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর পল্টনে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অবস্থান কর্মসূচিতে নামেন জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি থেকে চলমান জাতীয় জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। জোটের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিগত তিন মাসে আদায় করা ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের সুষ্ঠু তদন্তে গণশুনানি আয়োজন, অনিয়মে জড়িতদের শাস্তি ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে অতিরিক্ত মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জসহ সব ধরনের অযৌক্তিক চার্জ বাতিল এবং অতিরিক্ত কাটা অর্থ গ্রাহককে ফেরতের দাবি জানান বক্তারা।
সংকট সমাধানে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকালীন বিল আদায় বন্ধ রাখা, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও পুরোনো কূপ খননে জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের বর্তমান অবস্থার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা চায় ১১ দল।
জোটের নেতারা আরও দাবি করেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, স্মার্ট মিটারিং চালু ও পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে গ্যাসের চুরি ও ‘সিস্টেম লস’ শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। শিল্প, ব্যবসায় ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিএনজি-এলপিজির বাজারে স্বস্তি ফেরানো এবং খাতটির সর্বস্তরের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে পল্টনের এ অবস্থান কর্মসূচির কারণে জিরো পয়েন্ট ও সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে সাময়িক তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা ওই এলাকার সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলে।

আপনার মতামত দিন