সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জনসভায় যোগদানে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে তাঁর গুলশানের বাসভবনের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং পেপার স্প্রে প্রয়োগের মামলায় সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ শেষে এই রিমান্ড আদেশ দেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকার বাসভবন থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন বুধবার তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবারের দিন ধার্য করেছিলেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারনামীয় ১১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০-৩০০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। তারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মারধর করে রাস্তায় অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে।
পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খালেদা জিয়া সমাবেশে রওয়ানা হতে চাইলে আসামিরা রাস্তায় বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আড় করে ব্যারিকেড তৈরি করে। বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর গতি রোধ করা হয় এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে প্রয়োগ করা হয়, যাতে খালেদা জিয়াসহ তাঁর সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মারাত্মক আহত ও অসুস্থ হন।
এই দীর্ঘদিনের বর্বরোচিত ঘটনার বিচার চেয়ে ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন। মামলায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, বেআইনি জনতা গঠন ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন