পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং মধ্যরাতে পরিবারের সদস্যদের নিজ হাতে কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এই পোস্টটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে।
গত শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ২টার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকালে ৮৭ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। তাঁর পরিবার জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী হওয়ায় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাঁর দাফনে বাধা দেন এবং প্রথমবার খোঁড়া কবর ভরাট করে ফেলেন। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মৃত ব্যক্তির মেয়ে ও দুই বোন মোবাইল ফোনের আলোয় কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
এই অমানবিক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা লেখেন, "আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছি।"
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় জামায়াত নেতারা মানিক পশারীকে 'ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা' দাবি করে পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত থাকলেও জামায়াত নেতাকর্মীরা নিজেরাই বিচারক হয়ে দাফন ঠেকানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ডা. জারা লেখেন, "একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সেই অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে। একাত্তরে জামায়াত দল হিসেবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেই দলের নেতাকর্মীরা আজ ঠিক করে দিতে চাইছেন কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে ভুয়া, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন আর কার কবর কোথায় হবে।"
বিরোধী দলে থাকাবস্থায় এমন আচরণ ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয় কি না—সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নিজেদের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও ইনসাফের কথা বললেও অন্যদের ক্ষেত্রে জামায়াত নেতাকর্মীরা ভিন্ন আচরণ করছেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের পাহারায় পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই মাঝরাতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন