জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এবং তাঁদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের (এমপি) মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই পরামর্শ দেন। প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে নির্বাচনী এলাকার নানা সামাজিক ও মানবিক চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়; যা জনপ্রতিনিধিদের অনৈতিক পথে পা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য সর্বমোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো পান, যা বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত অপ্রতুল। বিশেষ করে যেসব প্রতিনিধির নিজস্ব বিপুল সম্পদ নেই, তাঁদের জন্য দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক বেতন-ভাতা না থাকলে অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন বা দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সুশাসন নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও বেতন বৃদ্ধির কৌশল সফল হয়েছে।”
সংসদ সদস্যদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে নুর সচিবদের মতো এমপিদের জন্যও সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, “করমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল হওয়ায় এমপিরা যেন দায়িত্ব পালনকালে ব্যবহারের জন্য একটি সরকারি গাড়ি পান এবং মেয়াদ শেষে তা পরিবহন পুলে ফেরত দেন। দুর্গম অঞ্চলে যাতায়াতে ছোট গাড়িতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে, অথচ নতুন বা নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্য সব এমপির থাকে না।”
একই অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা প্রকাশের পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। সরকারি দপ্তরে জনগণের ভোগান্তি দূর করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিক ও সেবামুখী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আপনার মতামত দিন