আমরা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই, তবে বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার যৌথ আয়োজন করে ঢাবি সাদা দল ও ইউট্যাব।
ভারতে বসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আর অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও চাইবেন—এই দুটো বিষয় একেবারেই বিপরীতমুখী। আশা করি, ভারত সরকার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবে।” একই সাথে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অবস্থান এবং ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের তুলনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, জোরপূর্বক গুম ও নির্বাসনে পাঠানোর প্রেক্ষাপট আর গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপট কখনো এক হতে পারে না।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী যিনি প্রায় ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করেছেন এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালিয়েছেন, ভারত তাকে কোন বিচারে গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে মর্যাদা দেয়—সেটি একটি বড় প্রশ্ন। দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, তার দায় ভারত এড়াতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্টকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কথা বলার সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশ সমর্থন করে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদালতেই নির্ধারিত হবে। তবে শেখ হাসিনা ও তাঁর দোসরদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজনীতিতে ‘চেতনা বিক্রির ব্যবসা’ ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে এখন দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। একই সাথে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনকে অস্বীকার করা রাজনৈতিক অপরিপক্বতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আপনার মতামত দিন