দেশে রাজধানীসহ দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় এক থেকে দুই দিনের জ্বর হলেই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তের একটি বড় অংশই শিশু, বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরও জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গে কালক্ষেপণ না করে ডেঙ্গু পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর 'এনএস-১' (NS1) পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি 'সিবিসি' (CBC) পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৫৯ জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশই তরুণ ও শিশু (০ থেকে ৩০ বছর বয়সী)। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের (২০২৫) একই সময়ের তুলনায় এ বছর সংক্রমণ ও মৃত্যু—উভয় হারই কিছুটা কম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই মূল উপায়। বাসাবাড়ির ফুলের টব, ড্রাম, বালতি বা এসি-রেফ্রিজারেটরের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। এছাড়া ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর উঠলে মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে।"
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে রোগী বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত শয্যা ও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত দিন