মহান আল্লাহ, বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস এবং কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করাসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠককালে হেফাজতে ইসলামের পক্ষে এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয়।
উক্ত সাক্ষাতকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া একটি অভিনন্দন পত্রে ঐতিহ্যবাহী ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানানো হয়। পত্রে প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী, সাবেক আমির আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করা হয়।
হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত ৯ দফা দাবি:
১. মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাস করা।
২. কোরআন-সুন্নাহর সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।
৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সকল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
৪. কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) স্বীকৃতি বাস্তবে কার্যকর করে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
৫. শিক্ষার প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৮. আলেমদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
৯. বিতর্কিত মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।
অভিনন্দনপত্রের সমাপনীতে আশা প্রকাশ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং আলেম সমাজের প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধাবোধ দেশের তৌহিদী জনতাকে অনুপ্রাণিত করবে।

আপনার মতামত দিন