চলতি বছরের মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই শতাংশ বেশি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সার্বিক অনুলিপি তুলে দেন। এর মধ্য দিয়ে ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। তবে সার্বিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে তা ছিল গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। বিগত বছরের ফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়—২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৩.৪ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮০.৩৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮৭.৪৪ শতাংশ। করোনা মহামারির সময় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত ২০২১ সালের পরীক্ষায় পাসের হার সর্বোচ্চ ৯৩.৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। এছাড়া ২০১০ সালে ৭৮.৯১ শতাংশের পর ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৭৭.৮ শতাংশ এবং ২০০৯ সালে তা ছিল ৬৭.৪১ শতাংশ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের মেয়াদে পরীক্ষার ফলাফল কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি করার যে অভিযোগ ছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের নীতি রয়েছে, সে হিসাবে গত ২০ জুলাই এ ফল প্রকাশের কথা ছিল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে অংশ নেয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে (দাখিল) ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি নির্দিষ্ট নম্বর থেকে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে সহজে ফল জানতে পারবে।

আপনার মতামত দিন