মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গাজা থেকে হামাসের সব অস্ত্র বাস্তবিকভাবে অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল কোনো চুক্তিতে সায় দেবে না।
সম্প্রতি ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের অস্ত্র পুরোপুরি জব্দ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার সম্ভব নয়। এসব অস্ত্রকে ইসরায়েল ও তার নাগরিকদের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ ভেস্তে গেলেও ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু।
গত মাসে ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ রূপরেখায় গাজা পুনর্গঠন, হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাথমিকপর্যায়ে এই চুক্তির তদারকি ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে একটি শান্তি পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু গত অক্টোবর মাসে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও প্রতিদিন গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে গত রোববার হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বিবিসিকে জানান, তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ১৫ দফা চুক্তিটি পুরোপুরি মানতে প্রস্তুত। তবে তাদের দাবি— ইসরায়েলকে আগে গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হবে এবং সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে; কেবল তখনই ভারী অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও ট্রাম্পের আরেকটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল ইসরায়েল।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং গাজা শান্তি বোর্ডের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ এই পরিকল্পনার সপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সংঘাতের টেকসই সমাধানের ক্ষেত্রে এটিই একমাত্র কার্যকর পথ।” ম্লাদেনভ স্পষ্ট করেন, হামাস বাস্তবে অস্ত্র সমর্পণ করছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার আগে ইসরায়েলকে সেনা সরাতে বাধ্য করা হবে না।
জাতিসংঘের তথ্য মতে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানের কারণে গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ) বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক হামলায় ইতোমধ্যে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন বন্দি হওয়ার পর থেকেই গাজায় এই আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

আপনার মতামত দিন