আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশের শিওয়া এলাকায় ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে সোনা উত্তোলন। পাহাড়ি এই অঞ্চলে দিনরাত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি খনন করছেন শত শত শ্রমিক। তালেবান সরকারের অধীনে খনিজ সম্পদ আহরণের এই তোড়জোড়ে একদিকে যেমন স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবেশ, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
প্রাদেশিক রাজধানী ফাইজাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের শিওয়ায় বর্তমানে কয়েক হাজার শ্রমিক খনি ব্যবসায়ীদের অধীনে কাজ করছেন। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর রাজস্ব বাড়াতে ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে জোর দিয়েছে তালেবান প্রশাসন।
বাদাখশানের খনি বিভাগের প্রধান আব্দুল মতিন রহিমজাই জানান, প্রদেশজুড়ে প্রায় ৬৫০ থেকে ৭০০টি কোম্পানিকে খননকাজের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যেখানে কাজ করছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কাজের সুযোগ কম থাকায় কাবুলের দিনমজুর থেকে শুরু করে জালালাবাদের এক্সকাভেটর চালকরাও এখানে কাজের সন্ধানে ভিড় জমাচ্ছেন।
তবে অর্জিত এই কর্মসংস্থানের আড়ালে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে স্থানীয়দের কথায়। ৭৪ বছর বয়সী ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষক মুহাম্মদ আমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, খননকাজের রাসায়নিক ও বর্জ্যে নদী দূষিত হয়ে পানি পান ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ধুলাবালি ও নদীর তীরের ঘাস ধ্বংস হওয়ায় কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একটি মাইনিং প্রতিষ্ঠান তাঁর জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া ও ২০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অর্ধেক টাকা দিয়ে জমি নষ্ট করে ফেলে রেখে গেছে।
বর্তমানে মাইনিং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর কর আরোপ করেছে তালেবান সরকার। প্রতি মাসে প্রতি হেক্টর জমির জন্য খনিগুলোকে ২০ গ্রাম সোনা বা সমপরিমাণ অর্থ কর দিতে হয়— প্রতিষ্ঠান লাভে থাকুক বা লোকসানে। বাদাখশানের পাশে তাখার প্রদেশে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটি চীনা কোম্পানিও সোনা উত্তোলনে যুক্ত রয়েছে।
আফগানিস্তান অ্যানালাইস্ট নেটওয়ার্কের গবেষক ফাব্রিজিও ফোসচিনি উল্লেখ করেন, বিগত দশকগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা এই খাত থেকে অনৈতিক সুবিধা নিলেও বর্তমানে তা সরকারি তদারকিতে আনা হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগে কিছু প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ, তবুও যেসব এলাকায় এখনো সোনা উত্তোলন শুরু হয়নি সেখানকার অধিবাসীদের আশঙ্কা— প্রাকৃতিক সম্পদের এই বিযোজন সাধারণ মানুষের চেয়ে ক্ষমতাবানদের পকেটই বেশি ভারী করছে।

আপনার মতামত দিন