২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, স্মারক ও নথি সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন ২০২৬’। গত ১০এপ্রিল আইনটি প্রণয়নের পর ৫আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ঐতিহাসিক এই জাদুঘর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন থেকেই তা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আইন অনুযায়ী, জাদুঘরের স্থাবর বা অস্থাবর কোনো নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করলে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
স্থাবর নিদর্শন বিনষ্ট করা (২২ ধারা): কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শন বা এর কোনো অংশবিশেষ ধ্বংস, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করলে তিনি অপরাধী বলে গণ্য হবেন। এ জন্য অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড, ১০লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
অস্থাবর নিদর্শন চুরি বা পাচার (২৩ ধারা): জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস বা বিকৃত করলে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
নিদর্শনে খোদাই বা বিকৃতি (২৪ ধারা): জাদুঘরের সংগৃহীত নিদর্শনের ওপর কিছু লেখা, খোদাই করা বা স্বাক্ষর করার মতো অপরাধে অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপরাধ (২৫ ধারা): জাদুঘরের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী এসব অপরাধে জড়িত থাকলে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন।
আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, গণভবনে জাদুঘরটির প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সাবেক সরকারের আমলে ব্যবহৃত সব গোপন বন্দীশালা ও নির্যাতন কেন্দ্রকে (আয়নাঘর ইত্যাদি) এই জাদুঘরের শাখা হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও পরিচালনা করার আইনি একচ্ছত্র অধিকার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট যেকোনো সংস্থা নিজ অধীনে থাকা এসব গোপন কেন্দ্র জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে।
আইনের ৫ ও ১৫ ধারা অনুসারে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্নের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের দলিল অনুসন্ধান ও প্রদর্শন করা হবে। জাতীয় বা অন্যান্য জাদুঘরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তির মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্মারক ও নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় বা উপহার হিসেবে আদান-প্রদানের সুযোগও রয়েছে।
নির্ধারিত ফি-এর বিনিময়ে সাধারণ দর্শনার্থীরা জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলো সুরক্ষিত রেখে ভবিষ্যতের প্রজন্মের সামনে স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

আপনার মতামত দিন