রাজধানী ঢাকা শহরে ব্যাটারি ও যন্ত্রচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরি ও সংযোজন বন্ধে নির্ধারিত কিছু কারখানাকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমে সার্বিক কারিগরি সহায়তা দেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠক শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, “রাজধানীতে যেসব ব্যাটারিচালিত বা যন্ত্রচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি পাবে, সেগুলো যেকোনো স্থানে যত্রতত্র তৈরি করা যাবে না। ঢাকার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু কারখানা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এসব নির্ধারিত কারখানায় রিকশা প্রস্তুত বা সংযোজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।”
সভায় ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো, সড়ক নিরাপত্তা এবং বাস্তবসম্মত উপায়ে ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত অংশীজনেরা তাদের নিজ নিজ মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এবং এর সংশোধনীর আলোকে একটি ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই নীতিমালা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে নগরের যানজট কমে আসার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত ও নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া চালু করা হলে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরবে এবং পাশাপাশি সরকারি কোষাগারেও রাজস্ব যুক্ত হবে।

আপনার মতামত দিন