বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৬৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এই নেত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
গতকাল শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালনে সারা দেশের দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং বাদ আছর গুলশান কার্যালয়ে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিকেল ৩টায় মহাখালীর কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়ার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে অনুদান বিতরণ করা হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার থেকে খালেদা জিয়া কখনো বিচ্যুত হননি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তিনি ছিলেন মূল প্রেরণা ও আপসহীন আন্দোলনের প্রতীক।"
সংক্ষিপ্ত জীবন ও রাজনৈতিক ইতিহাস
চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন চতুর্থ। বাবা এস্কান্দর মজুমদার ও মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। পৈতৃক নিবাস ফেনীর ফুলগাজীতে হলেও বাবার কর্মস্থল দিনাজপুরেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে। ১৯৬০ সালের আগস্টে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির দুই সন্তান—তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো।
১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর গৃহবধূ খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে তিনবার দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন তিনি।
পরবর্তীকালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় এবং ২০১৮ সালে তৎকালীন দুর্নীতি মামলায় তাঁকে কারাবন্দী করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও অসুস্থতার পর ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে নিজ বাসভবনে চিকিৎসা নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বেগম খালেদা জিয়ার সাজা মওকুফ করে সম্পূর্ণ মুক্তি দেন। মুক্তির পর যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী।
নানা শারীরিক জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর অভূতপূর্ব জানাজা শেষে শেরেবাংলা নগরে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর দল ও সরকারের হাল ধরেন জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে বর্তমানে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

আপনার মতামত দিন