দেশজুড়ে তীব্র কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) সংকটের কারণে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভোগ। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় পাম্পগুলোর সামনে জমেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, যা কোথাও কোথাও দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে পথচারী ও চালকদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উত্তরার বিমানবন্দর সংলগ্ন মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজ ঘুরে দেখা যায়, ভোররাত থেকেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন জমেছে। অনেক চালক জানান, ভোর ৪টা বা ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকার গ্যাস পাচ্ছেন। তবে গ্যাসের চাপ (প্রেসার) অত্যন্ত কম থাকায় এই অল্প গ্যাসে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয়ে রয়েছেন তাঁরা।
সুদীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি চালকরা পাম্প কর্মীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। মগবাজার থেকে আসা প্রাইভেট কার চালক কামরান জানান, পাম্পের কিছু কর্মী অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পেছন থেকে আসা গাড়িগুলোকে সিরিয়াল ডিঙ্গিয়ে আগে গ্যাস সরবরাহ করছেন।
তবে পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশব্যাপী মূল সরবরাহ কম থাকায় এবং গ্যাসের লাইন প্রেসার আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছেন না।
এদিকে পেট্রোবাংলা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সামিট এলএনজি টার্মিনাল তাদের এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট—দুই টার্মিনাল থেকেই সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই লাইনের প্রেসার স্বাভাবিক হবে এবং গ্যাস সংকট কাটার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্পোৎপাদনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

আপনার মতামত দিন