পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার একটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কলোনিতে টানা ১৭দিন ধরে সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন জ্যোতিনগর কলোনিতে এই চরম নাগরিক সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের এসব মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় ৫০০ সংখ্যালঘু পরিবার ৫০ থেকে ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছে। অধিকাংশ অধিবাসীই নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। সুপেয় পানির বিকল্প হিসেবে বাধ্য হয়ে তারা পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গার অনিরাপদ পানি রান্না ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করছেন, যার ফলে এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বাসিন্দাদের দাবি, কলোনির পাঁচটি সুপেয় পানির কল ও ল্যাম্পপোস্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার পেছনে মূলত বস্তি উচ্ছেদের সুদূরপ্রসারী ফন্দি রয়েছে। পূর্বে কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও সুপেয় পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কলোনির সিংহভাগ বাসিন্দা সংখ্যালঘু হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে স্থানীয় বিজেপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার পর এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তীব্র হয়েছে।
এ বিষয়ে কলকাতা সিটি কর্পোরেশন কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জ্যোতিনগর কলোনির শতাধিক পরিবার।

আপনার মতামত দিন