ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক চেষ্টা জোরদার করেছে বাংলাদেশ সরকার। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবল আদালতের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
ভারতের এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতীয় আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য কি না, তা আদালতে যাচাই করা হবে। ভারতের ‘প্রত্যর্পণ আইন-১৯৬২’ অনুযায়ী, এমন অনুরোধ পাওয়ার পর একজন ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন, অন্যথায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মুক্তি পেতে পারেন।
২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রযোজ্য না হলেও হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো ১২টি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকা প্রয়োজনীয় নথিসহ অনুরোধটি পাঠিয়েছে এবং তা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর তাকে ফেরানোর দাবি আরও জোরালো হয়। বর্তমানে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম দেশে নিষিদ্ধ রয়েছে।
তবে ভারতের অবস্থানের পাশাপাশি শেখ হাসিনা নিজেও চলতি বছরের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। উভয় দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার আলোকেই এখন পরবর্তী আইনি পথ নির্ধারিত হবে।

আপনার মতামত দিন