দেশের চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগীর চাপ, জরাজীর্ণ ভবন এবং শিক্ষার্থীদের তীব্র আবাসন সংকট কাটাতে ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছরই শুরু হয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান প্রধান যে পরিবর্তন ও সুবিধা যুক্ত হবে:
আধুনিক অ্যাকাডেমিক ভবন: ৩টি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনে থাকছে ৩০০ আসনক্ষমতার ৪টি লেকচার থিয়েটার এবং ২টি বিশাল পরীক্ষা কক্ষ।
আবাসন ব্যবস্থা: শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কাটাতে ৮০০ আসনের ১৫ তলাবিশিষ্ট ছাত্র হোস্টেল এবং শিক্ষকদের জন্য ১৫ তলা বিশিষ্ট কোয়ার্টার ভবন নির্মাণ করা হবে।
অন্যান্য পরিকাঠামো: ৮০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৪ তলাবিশিষ্ট মসজিদ, ডা. ফজলে রাব্বি হলসংলগ্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়ন এবং অত্যাধুনিক ফায়ার হাইড্র্যান্ট ব্যবস্থা ও লিফট স্থাপন।
পরিবেশবান্ধব পরিবেশ: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন, সোলার এনার্জি এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং) আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢামেকের অনেক ভবনই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ২,৬০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪,০০০ রোগী চিকিৎসা নেওয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের পুরোনো হলগুলো (যেমন: ডা. ফজলে রাব্বি হলের একাংশ) পরিত্যক্ত হওয়ায় দৈনন্দিন সেবা ও শিক্ষ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চিকিৎসা শিক্ষা, মানসম্মত গবেষণা এবং উন্নত রোগী সেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

আপনার মতামত দিন