দেশের যেসব ছোট এলাকায় কিছু শিশু হাম-রুবেলার টিকা পাওয়া থেকে বাদ পড়েছে, সেসব জায়গায় বিশেষভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মজুত থাকা ১৬ লাখ টিকা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্যসচিব জানান, হাম পরিস্থিতি মোকাবেলায় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তাৎক্ষণিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকায়) ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৯১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাম নিশ্চিত হয়ে মারা গেছে ৯৯ জন এবং উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৮১৫ জনের। মৃতদের একটি বড় অংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং তারা কোনো টিকা পায়নি।
আইসিসির সভার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক হার নিচে তুলে ধরা হলো:
৬ মাসের কম: ১০%
৬ মাস থেকে ৫৯ মাস: ৭৪%
৫ বছর থেকে ১০ বছর: ১৪%
১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি: ২%
উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ জন শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত টিকাদানে যাতে আগামী বছর সংকট না তৈরি হয় এবং মাঠপর্যায়ে শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া যায়, সে বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আপনার মতামত দিন