বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র তৈরির ক্রমবর্ধমান চাহিদার মুখে অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত ঐতিহাসিক ডলফিন মাইন (Dolphin Mine) পুনরায় পুরোদমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল’ বা কৌশলগত খনিজ হিসেবে বিবেচিত টাংস্টেনের বিপুল মজুত রয়েছে এই খনিতে। অত্যন্ত শক্ত এ ধাতুর বৈশ্বিক ঘাটতি ও চাহিদা মেটাতে ডলফিন মাইনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
খনিটির ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি থেকে প্রথম খনিজ উৎপাদন শুরু হয়েছিল। গত এক শতাব্দীতে বৈশ্বিক চাহিদা ও মূল্যের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে খনিটির কার্যক্রম বহুবার চালু ও বন্ধ হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরিয়া যুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সামরিক প্রয়োজনে খনিটির উৎপাদন বিশেষ প্রভাব লাভ করে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে প্রকল্পটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে ডলফিন মাইন থেকে বাণিজ্যিকভাবে টাংস্টেন কনসেনট্রেট উৎপাদন শুরু হয়েছিল। বর্তমানে খনিটির ভূগর্ভস্থ উৎপাদন ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বের সিংহভাগ টাংস্টেন এককভাবে চীন উৎপাদন করে থাকে। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিরক্ষা ও শিল্প খাত দীর্ঘদিন ধরে চীনের ওপর নির্ভরশীল। চীনের এই একচেটিয়া প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মিত্র দেশ এখন বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কাজাখস্তানের একটি প্রধান টাংস্টেন প্রকল্পে খনিজ উত্তোলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। এমন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই ডলফিন মাইনের বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আপনার মতামত দিন