রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন যে, আশ্রয়ের এই সময় যেন কোনোভাবেই ১০ বছর থেকে ২০ বছরে পরিণত না হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরে: মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধান’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই ও চূড়ান্ত সমাধানও সে দেশেই খুঁজে বের করতে হবে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই একমাত্র পথ।
বাংলাদেশ একা এই সংকটের বোঝা বহন করতে পারে না। মানবিক উদরতাকে যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত বানানো না হয়।
দিন দিন মানবিক সহায়তার জন্য অর্থায়ন কমলেও চাহিদা বেড়েই চলেছে। দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট কম দৃশ্যমান হওয়ার অর্থ এই নয় যে এটি কম জরুরি।
পারস্পরিক সম্মতিতে গৃহীত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, ক্যাম্পের জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর আগতদের তথ্য যুক্ত করে দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অতীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময় সফল প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বর্তমান নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের নিজ ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

আপনার মতামত দিন