ইরানে হিজাব পরার বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে নারীদের নীরব ও প্রকাশ্য প্রতিরোধ ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় এখন মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব ছাড়াই নারীদের স্বাভাবিক চলাচল আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। যুদ্ধ, তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী চাপের মুখে থাকা ইরানি সরকার এই পরিস্থিতিতে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিতে এক প্রকার দ্বিধায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সরকারি জনসভা, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও হিজাববিহীন নারীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কট্টরপন্থিরা বাধ্যতামূলক হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসলেও, ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট ব্যাপক গণবিক্ষোভের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় সরকার আপাতত বড় কোনো সংঘাত এড়াতে চাইছে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও শক্তি প্রয়োগ করে মানুষের বিশ্বাস বা আচরণ পরিবর্তন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখতে কট্টরপন্থিদের চাপ অব্যাহত থাকায় তেহরানের বর্তমান নীতিনির্ধারকদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত দিন