যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি স্মারক মুদ্রায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি স্থান পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী পর কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি দেশটির মুদ্রায় ব্যবহারের ঘটনা ঘটল। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে বিশেষ এই কয়েন বাজারে এনেছে মার্কিন টাকশাল (U.S. Mint)। কয়েনটির সম্মুখভাগে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশে ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ কথাটি খোদাই করা হয়েছে। টাকশালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতার আড়াই শতক পূর্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি এই বিশেষ সংস্করণের মাধ্যমে একটি জাতির চেতনা, ঐতিহ্য ও গর্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন এই কয়েন সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২৫টি কয়েনের একটি রোলের দাম ৬১ ডলার এবং ১০০ কয়েনের একটি ব্যাগের দাম ১৫৪.৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন টাকশালের ওয়েবসাইটে কয়েনগুলো স্টকআউট বা ‘মজুত নেই’ হিসেবে দেখা যায়।
এর আগে গত মে মাসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সংবলিত নতুন ২৫০ ডলারের নোট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে জীবিত ব্যক্তির ছবি দিয়ে কাগুজে মুদ্রা ছাপানোর ক্ষেত্রে দেশটিতে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল করতে তার সমর্থকেরা কংগ্রেসে একটি বিল প্রস্তাব করেছেন, যা বর্তমানে অমীমাংসিত অবস্থায় আছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত একটি হাফ-ডলারের কয়েনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। জীবদ্দশায় কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি মুদ্রায় স্থান পাওয়ার ঘটনা সেটাই ছিল প্রথম।
মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কয়েনের পেছনের অংশে জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামনের অংশের ক্ষেত্রে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ট্রাম্পের প্রতিকৃতিটি নতুন ১ ডলারের কয়েনের সামনের অংশেই রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮৬৬ সালের ‘থেয়ার অ্যামেন্ডমেন্ট’ অনুযায়ী কাগুজে নোটে জীবিত ব্যক্তির ছবি নিষিদ্ধ হলেও প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুসারে এই নিয়ম ধাতব মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

আপনার মতামত দিন