দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ও বহুমুখী উৎসের সন্ধানে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ শনিবার রাজধানীতে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও এর ব্যবহার বাড়ানো হবে। এছাড়া বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনে চীন ও জাপানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ ও ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ধারণার পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংকট বা বন্যার দেশ হিসেবে নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চায় সরকার।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ জানান, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন ও ব্র্যাক ব্যাংকের সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান।

আপনার মতামত দিন