নেপালের ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার দীর্ঘ ১১ দিন পর নুয়াকোটের বেত্রাবতী বাজারে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দ্রিকা শ্রেষ্ঠা নামের এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল তাঁকে উদ্ধার করে।
চন্দ্রিকা নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বেত্রাবতীসহ নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। সে সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁকেও নিখোঁজ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল।
উদ্ধারকারী দলের পরিদর্শক সুমন বিকের নেতৃত্বে বেত্রাবতী বাজারের আনন্দ শ্রেষ্ঠার বাড়ির ধ্বংসাবশেষে তল্লাশি চালানোর সময় চন্দ্রিকাকে খুঁজে পাওয়া যায়। অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ত্রিশুলির মৈথিলি ব্যারাকে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী কাঠমান্ডুতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে নেপালের ভয়াবহ বন্যার মধ্যে একটি বিরল আশার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই দিনে ভোতে কোশি বন্যায় আটকে থাকা আরও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর মিলেছে, যার মধ্যে আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে ১০ দিন পর এক চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ ও শিলাখণ্ড ধসের ফলে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এর ফলে রাশুয়া, নুয়াকোটসহ ত্রিশুলি নদী উপত্যকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত দিন