ভারতের আহমেদাবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জেরে ২২ বছর বয়সী তরুণী সোফিয়াকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ‘অনার কিলিং’ বা পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে ঘটিত এই হত্যাকাণ্ডকে প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বা ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নিহত সোফিয়া একটি হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১২ আগস্ট রাতে তার বাবা মোহাম্মদ ফারুক এবং ভাই মোহাম্মদ হাবিল তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে হাবিল হাতুড়ি দিয়ে তার বোনের মাথায় তিনবার আঘাত করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আড়াল করতে সোফিয়ার মরদেহ প্রধান সড়কে এনে ফেলে দেওয়া হয় এবং দুর্ঘটনা প্রমাণ করতে নিজেদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
পরবর্তীতে ভাই হাবিল পুলিশকে জানান যে একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়েছে। সোফিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় সোলা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৩ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে পুলিশের নিবিড় তদন্তে আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। তদন্তে জানা যায়, তিন মাস আগে সোফিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনার জেরে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন