সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত ভেটিংয়ের জন্য ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে। এরপর সাতটি পৃথক এসআরও জারির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দ্রুত তা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি চলছে।
এবার পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থাপনায়। সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম 'আইবাস প্লাস প্লাস' (iBAS++)-এ চাকরিজীবীদের তথ্য হালনাগাদ করার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন নির্ধারিত হবে। এর ফলে পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির তথ্য যাচাই করে অনলাইনেই মূল বেতন ও ভাতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। কাগজভিত্তিক বেতন পুনর্নির্ধারণের দীর্ঘসূত্রতা কমার পাশাপাশি হিসাবের ভুল বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও এতে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিধান উল্লেখ করে মোট সাতটি পৃথক এসআরও জারি করা হবে। এগুলো হলো:
বেসামরিক প্রশাসন
পুলিশ বিভাগ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান
সশস্ত্র বাহিনী
বিচার বিভাগ
এসআরওগুলোতে সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকবে। তবে প্রজ্ঞাপন ও এসআরও জারির পরও বেতন বিল, জিপিএফ, সরকারি ঋণ, আয়কর হিসাব এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন-পেনশন প্রদানের বর্তমান ব্যবস্থাগুলো আইবাস প্লাস প্লাসের আওতায় বহাল থাকবে।

আপনার মতামত দিন