দেশে কিশোর গ্যাং, মাদক চোরাকারবার এবং চুরি-ছিনতাই রোধে 'নেইবারহুড পুলিশিং' চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকেই অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন শাখা থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ধারণাটি তুলে ধরা হয়েছে। এর মূল দর্শন হলো—নাগরিকদের থানায় না গিয়ে নিজ এলাকায় পুলিশি সেবা পাওয়া এবং অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা। নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন।
বাংলাদেশে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের প্রচলন থাকলেও জনবল সংকট, প্রচারের অভাব এবং লজিস্টিক ঘাটতির কারণে তা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। অনেক এলাকায় বিট পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা বর্তমানে স্তিমিত হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন এই উদ্যোগ সফল করতে হলে কেবল নামসর্বস্ব কমিটি নয়, বরং সুনির্দিষ্ট জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্যদাতার নিরাপত্তা এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে প্রকৃত আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিট ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে জাপানের মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদলে এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষকে থানায় যাওয়ার প্রয়োজন না পড়ে।

আপনার মতামত দিন