ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যকার চলমান সংঘর্ষের ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সংঘাতের জেরে দেশের অভ্যন্তরে এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর জানায়, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তার সন্ধানে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে জিবুতিতে পাড়ি জমাচ্ছেন। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত চার দিনেই এই পথ পেরিয়ে জিবুতিতে পৌঁছেছেন দুই হাজার চারশয়ের বেশি মানুষ, যার বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি।
ইরান-সমর্থিত হুথিদের দ্রুত অগ্রসরে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই নতুন করে বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে হুথিরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
হোদেইদা ও মোখা এলাকার বাসিন্দারা জানান, ভয়াবহ গোলাবর্ষণ ও স্নাইপার হামলার মুখে সামান্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে তারা আকস্মিকভাবে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের পেছনে ফেলেও জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা আরও বাড়বে এবং সীমিত সম্পদের ওপর চাপ চরম আকার ধারণ করবে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইয়েমেনের জন্য অবিলম্বে অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রয়োজন। এছাড়া ইয়েমেনে অবস্থানরত সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসা ৬৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

আপনার মতামত দিন