বিশ্ব নেতারা জাতিসংঘের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন মহাসচিব পদের প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আবারও বৈঠকে বসেছিল জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বর্তমান মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত হতে বর্তমানে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে অনানুষ্ঠানিক ‘স্ট্র পোল’ বা গোপন ভোটপ্রক্রিয়ার প্রথম দুই রাউন্ড শেষে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সম্ভাব্য বিজয়ী উঠে আসেনি।
গোপন এই ভোটের দ্বিতীয় রাউন্ডে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বার্কেট। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং তৃতীয় অবস্থানে আছেন জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থার বর্তমান প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন সেনেগালের ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোন এ-বাকি, চিলির মিশেল ব্যাশেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার অলারা ওতুন্নু।
এদিকে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র) অনুরোধে হঠাৎ করেই একজন সমঝোতামূলক নতুন প্রার্থীকে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হতে পারে। তবে প্রক্রিয়াটি নিয়ে কিছু কূটনীতিক অস্বচ্ছতার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন।
নির্বাচনের নিয়মানুযায়ী, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে কোনো প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় ৯টি ভোট পেতে হয় এবং পাঁচ পরাশক্তির কারও ভেটো এড়াতে হয়। এই বাধা সফলভাবে পার হওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রার্থীর নাম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন মহাসচিবকে অবশ্যই জাতিসংঘকে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সংস্থার কার্যকারিতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন রাজনৈতিকীকৃত আদর্শ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল ফোরটি বলেন, প্রার্থীরা কাউন্সিলের সমর্থন আদায় করতে পারছেন কি না, নাকি পরিস্থিতি আগের মতোই অস্পষ্ট থাকছে—সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য গোপন ব্যালটে প্রতিটি প্রার্থীর জন্য ‘উৎসাহিত’, ‘নিরুৎসাহিত’ কিংবা ‘কোনো মতামত নেই’—এই তিনটি লেবেলের যেকোনো একটি নির্ধারণ করেন। নির্দিষ্ট কয়েক রাউন্ড ভোটের পর স্থায়ী সদস্যদের জন্য আলাদা রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়, যা থেকে সম্ভাব্য ভেটো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। জাতিসংঘ সপ্তাহের শেষে আরেকটি অনানুষ্ঠানিক ভোট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন