হোম / জাতীয় / নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয়

নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
৮৩ বার পঠিত
ফন্ট:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় হোটেলের বাইরে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এদিন ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন মার্কিন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মী ও প্রবাসীরা বিমানবন্দর ও হোটেলের আশপাশে জড়ো হয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিসংযুক্ত ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। নেতাকর্মীদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল প্রটোকলভিত্তিক নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক অনন্য উন্মুক্ত মঞ্চ।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এই ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত সফরসূচি:

২২ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘ মহাসচিবের সংবর্ধনা প্রাতরাশ ও ইউএনজিএ-র উদ্বোধনী পর্বে যোগদান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘে মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। সন্ধ্যায় মার্কিন রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

২৩ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পদক্ষেপ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর।

২৪ সেপ্টেম্বর: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও মাতৃ-মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায় সভায় বক্তব্য প্রদান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক। বিকেলে সাধারণ পরিষদে ভাষণ এবং রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজ।

২৫ সেপ্টেম্বর: ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক, কুয়েতের যুবরাজ ও ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং মধ্যাহ্নভোজ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়।

এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়াকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

মাতুভূমি/এসএফ

ড
ডেস্ক রিপোর্ট

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+