হোম / জাতীয় / একদিনেই চড়েছে সবজির বাজার
জাতীয়
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব:

একদিনেই চড়েছে সবজির বাজার

ডেস্ক রিপোর্ট
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
৫৬ বার পঠিত
ফন্ট:
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসার এক দিনের ব্যবধানেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসার এক দিনের ব্যবধানেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে সামনে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরে এটি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর তৃতীয় দফা।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি আঘাত পড়েছে পণ্য পরিবহনে। কারওয়ান বাজারের সবজি আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ট্রাকগুলোর ভাড়া প্রতি ট্রিপে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ময়মনসিংহের ট্রাকভাড়া ১৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। ফলে আড়ত থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে।

শুধু সবজি নয়, বেনাপোল স্থলবন্দরেও ট্রাকভাড়া স্থানভেদে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে হ্যান্ডলিং চার্জ গড়ে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আমদানি করা পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাতে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গণপরিবহনের ভাড়াও সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিআরটিএ ও পরিবহন মালিক সমিতির প্রস্তাব অনুযায়ী দূরপাল্লার ও শহরের বাসের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতিও বাস ও লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) বড় লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানির দাম আবার কমিয়ে আনা হবে। এছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি জোরদার করা হবে এবং অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের আয় অপরিবর্তিত থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই ধাক্কা সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করবে। এ অবস্থায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া ও মুনাফা ঠেকাতে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

ড
ডেস্ক রিপোর্ট

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+