বহু প্রতীক্ষিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ৫জুলাই, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এদিন সকাল ৯টায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই স্মৃতি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিস্তারিত তথ্য জানান।
তিনি জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্মৃতিকথা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং চূড়ান্ত বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। আয়োজনটিতে থাকবে বিষয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই জাদুঘর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, "সুনির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের প্রথম দিন (বুধবার) জাদুঘরটি কেবল যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারগুলোর পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এরপর দিন, অর্থাৎ ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা অনলাইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদনের মাধ্যমে এটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি অম্লান রাখতে এই জাদুঘরটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে আন্দোলনকালীন দুর্লভ আলোকচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মারক, আন্দোলনের ব্যানার-প্ল্যাকার্ড সংরক্ষণের পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের শাসনামলের নানা ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত প্রদর্শন করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন